Hoop PlusTollywood

Abhishek Chatterjee: ত্রিশ-বত্রিশটি সিনেমা হাতছাড়া, রাজনীতির শিকার অভিষেক কাদের দায়ী করেছেন!

চলে গিয়েছেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায় (Abhishek Chatterjee)। রেখে গিয়েছেন অনেকগুলি প্রশ্ন। আশির দশকে বাংলা সিনেমায় অভিষেক ছিলেন সবচেয়ে সুদর্শন নায়ক। তৎকালীন সময় ছিল তাঁর সিক্স প‍্যাক অ্যাবস। অথচ এই ধরনের পেশীবহুল শরীর তখন দেখা যেত না বাংলার নায়কদের মধ্যে। একবিংশ শতক হলে মুম্বই অথবা টলিউডেও অভিষেক হতে পারতেন নাম্বার ওয়ান। কিন্তু সেই সময় ভালো অভিনয় ও নায়কসুলভ সমস্ত গুণ থাকা সত্ত্বেও অভিষেক কেন হতে পারলেন না সুপারস্টার? তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বারবার উঠে আসছে এই প্রশ্ন।

আড়াইশোটি ফিল্মে অভিনয় করেছেন অভিষেক। ছিল ক্যাসানোভা ইমেজ। রাতের পর রাত কাটিয়েছেন ডিস্কো থেকে। কিন্তু পরবর্তীকালে সবকিছু থেকে সরে এসে আধ্যাত্মিক চর্চা করতেন। আধ ঘণ্টা ধরে পুজো করার পর শুটিংয়ে বেরোতেন। অভিষেক বিয়ে করেছিলেন কয়েক বছর আগে। মুম্বইয়ের মেয়ে অলকা (Alka)-র সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁদের একমাত্র কন্যাসন্তানের নাম সাইনা (Saina)। কিন্তু সবকিছুর মধ্যেও বারবার অভিষেককে শুনতে হয়েছে, ফুরিয়ে গিয়েছেন তিনি। অভিষেকের মতো একজন নায়ক নয় বছর কাজ না থাকার পর বাধ্য হয়েছিলেন যাত্রায় অভিনয় করতে। ছোট পর্দায় তাঁকে ফিরিয়ে এনেছিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Ganguly)। কিন্তু অভিষেকের কেরিয়ারের যাত্রাপথ এত এঁকে-বেঁকে চলত না, যদি না তিনি রাজনীতির শিকার হতেন।

টলিউডে বরাবর রয়েছে লবিবাজি যা টলিউডের শিল্পীরা স্বীকার করতে চান না কাজ হারানোর ভয়ে। নব্বইয়ের দশকে এই লবিবাজি আরও প্রখর হয়ে ওঠে। ‘অপুর সংসার’ শোয়ে এসে অভিষেকও একই কথা বলেছিলেন। সেখানে তিনি নাম না নিলেও পরবর্তীকালে একটি সাক্ষাৎকারে সোজাসুজি বলেছিলেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta) জুটি বেঁধে তাঁকে প্রায় ত্রিশ-বত্রিশটা ফিল্ম থেকে বাদ দিয়েছিলেন। সময়টা ছিল 1997-1998। সেই সময় অভিষেক টলিউডে এক নম্বর স্থান দখলের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও তাঁর সঙ্গে ক্রমাগত এই ঘটনা ঘটতে থাকায় মানসিক অবসাদের শিকার হন। কারণ প্রসেনজিৎ-এর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। এমনকি অভিষেকের বিয়েতে বরকর্তা হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। কিন্তু অভিষেকের এই অভিযোগের পর মুখ খোলেননি তিনি।

কিন্তু অভিষেক বলেছিলেন, বন্ধুত্বের আড়ালে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন প্রসেনজিৎ। ঋতুপর্ণার অজুহাত ছিল একটি সাক্ষাৎকার যেখানে অভিষেক ঋতুপর্ণা সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলেছিলেন যা তাঁর ভালো লাগেনি। পরবর্তীকালে তিনি অভিষেকের সঙ্গে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু প্রশ্ন এখানে, একজন নায়ক ও একজন নায়িকা ছাড়া এই ঘটনায় কি প্রযোজক ও পরিচালকদের কোনো হাত ছিল না! শুধুমাত্র বিনোদন জগত নয়, লবি সব স্থানে রয়েছে। যদিও অভিযোগের আঙুল ছিল প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার দিকে। অভিষেক কি পারতেন না ঘুরে দাঁড়াতে? হয়তো পারতেন, কিন্তু চলে গেলেন বড্ড তাড়াতাড়ি। হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে ফেলেছিলেন তিনি। ক্যাসানোভা ইমেজ ও ডিস্কো থেকের রঙিন আলোর আড়ালে হারিয়ে গিয়েছিলেন একজন সুপারস্টার।