Hoop PlusTollywood

Deboshree Ganguly: গার্হস্থ্য হিংসা শিকার তিনি নিজে, তিক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেবশ্রীর

রিলিজ করেছে বাংলা ফিল্ম ‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’। এই ফিল্মের মাধ্যমেই টলিউডে ডেবিউ করলেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী (Subhasree Ganguly)-র দিদি দেবশ্রী গাঙ্গুলী (Deboshree Ganguly)। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অধ্যায়কে পিছনে ফেলে শুরু হতে চলেছে তাঁর নতুন যাত্রা। কয়েক মাস আগেই দেবশ্রী খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন।

দেবশ্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছিলেন তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি। কিন্তু ভেঙে পড়েননি দেবশ্রী। রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty) ও শুভশ্রীর সহায়তায় তিনি আইনি পথে গিয়েছেন। তাঁর একমাত্র পুত্র ও তাঁর মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে শক্ত করেছিলেন দেবশ্রী। কারণ তাঁরা দেবশ্রীকে ভরসা করেন। দেবশ্রীর মতে, তাঁর চারপাশের মানুষরা ভাবেন, তিনি খুব শক্তিশালী। এই কারণেই সহজে ওভারকাম করতে পেরেছেন। কিন্তু দেবশ্রীও কেঁদেছেন, তবে আড়ালে।

স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে তাঁকে অনেক খারাপ কথা শুনতে হয়েছে। অনেকেই তাঁকে কটাক্ষ করে বলেছেন, সাত বছর ধরে একটি মানুষের সঙ্গে মিশে তাঁকে চিনতে পারেননি দেবশ্রী! কিন্তু দেবশ্রী মনে করেন, কোনো মানুষকেই এভাবে চেনা যায় না। ভারতের কোনো থানায় কার নামে কি কেস আছে, তা তাঁর পক্ষে সত্যিই বোঝা সম্ভব ছিল না। প্রথমে কিন্তু তাঁরা দুজনেই বন্ধু ছিলেন। দুজনেই ছিলেন অন্য সম্পর্কে। কিন্তু একসময় দুজনেরই ব্রেক-আপ হয়ে যায়। এরপর তাঁদের সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। বিয়ে করেন তাঁরা। কিন্তু তখনও দেবশ্রী ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি, তাঁর তথাকথিত স্বামীর আসল রূপ।

দেবশ্রীর মতে, যেকোনো টক্সিক রিলেশনশিপ থেকে বেরিয়ে আসা খুব প্রয়োজন। অবশ্যই নিজেকে ভালো রাখার জন্য, আশেপাশের মানুষগুলিকে ভালো রাখার জন্য। দেবশ্রীর ছেলের বয়স আঠারো বছর। দেবশ্রী চান না, তার উপর পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক। এই কারণেই প্রশাসনের সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি। আর কিছুদিনের মধ্যেই আইনত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে তাঁর।

তবে ‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’-র শুটিং তাঁকে অনেকটা রিলিফ দিয়েছে। শুটিংয়ে গিয়ে যেন মনে হচ্ছিল, ছুটি কাটাতে এসেছেন। ফিল্মের পরিচালক রাজর্ষি (Rajarshi) কিন্তু তার মাঝেও নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে শুটিং করেছেন। রাহুল (Rahul Arunodoy Banerjee) ও শাশ্বত (Saswata Chatterjee)-র সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিয়েছেন দেবশ্রী। ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে গিয়ে মনে হয়েছিল, ফ্যামিলি গেট টুগেদারে এসেছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে খুব ভালো বন্ডিং হয়ে গিয়েছে দেবশ্রীর। তাঁরা এখনও ভিডিও কলে কথা বলেন, আড্ডা দেন।

‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’ রিলিজের আগের রাতে তিনটার সময় ঘুমালেও ভোর পাঁচটার সময় দেবশ্রীর ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। শুধু দেবশ্রীই নয়, সবাই উদগ্রীব ছিলেন ফিল্মটি নিয়ে। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান দেবশ্রী। রাজর্ষির সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে। দেবশ্রীর ছেলে খুব চাপা স্বভাবের। কিন্তু সেও ফিল্মে দেবশ্রীকে কাঁদতে কাঁদতে আইসক্রিম খেতে দেখে কেঁদে ফেলেছিল। এটাই দেবশ্রীর সবচেয়ে বড় পাওনা।