GossipHoop Plus

Divya Bharti: মেয়ের বিয়ের কথা জানতেই পারেননি দিব্যা ভারতীর বাবা

বলিউডে দিব্যা ভারতী এক অস্তাচলে চলে যাওয়া সূর্যের নাম। যে সূর্যের উদয় আর কোনোদিনও হবেনা। অনেকেই বলেন যদি দিব্যা ভারতী বেঁচে থাকতেন অনেক ভালো ভালো নায়িকার ঘুম কেড়ে রাখার ক্ষমতা রাখতেন। মাত্র উনিশ বছরের জীবদ্দশায় তিনি বলিউডকে যা দিয়ে গেছেন তা খুব কম অভিনেত্রী পেয়েছেন দিতে।

তাঁর মৃত্যুর প্রায় তিরিশ বছর হতে চলল। কিন্তু আজও তাঁর মৃত্যুর কারণ সকলের কাছে অধরা। তাঁর মৃত্যু নিয়ে গত দুই দশকে বোনা হয়েছে বহু উপকথা। কেরিয়ারে রাতারাতি সাফল্যের জন্য হিংসার শিকার হয়ে তাঁকে কী খুন হয়ে যেতে হয়? এমন দাবিও অনেকে করে থাকেন। তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ কি তাঁর স্বামী সাজিদ নাদিয়াওয়ালা? এই প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় এখনও তার অনুরাগীদের।

মাত্র কয়েকটা বছরেই তিনি রীতিমতো বলিউডের রাজপাট সামলেছেন। তাঁর সুনিপুণ অভিনয় ক্ষমতা, একরাশ প্রাণখোলা হাসি এবং রূপের ছটা দিয়ে মুগ্ধ করে রাখতেন তিনি নব্বই দশকের দর্শকদের। ১৯৯০ সালে ‘বাবলি রাজা’ ছবির মাধ্যমে তিনি দক্ষিণী সিনেমায় পা রাখেন। ‘বিশ্বাত্মা’ ছবির মাধ্যমে তিনি তাঁর বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর তিন বছরের ক্যারিয়ারে তিনি বলিউডকে দিয়ে গেছেন অসংখ্য হিট ছবি। তাঁর মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তিনি ২১ টি ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা ছিল ৩০ টির বেশী। সেই সময় তিনি বলিউডের সবথেকে ‘highest-paid’ অভিনেত্রী ছিলেন।

এ কথা অনেকের কাছেই অজানা যে নিজের বিবাহের খবর স্বয়ং বাবার কাছেই গোপন রেখেছিলেন দিব্যা। ‘শোলা আউর শবনম’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময় তাঁর পরিচয় হয় প্রযোজক সাজিদের সঙ্গে। অল্প সময়ের মধ্যেই জমে ওঠে তাঁদের প্রেম। মাকে তাঁদের বিয়ের বিষয়ে অনুমতি চাওয়ার জন্য জানালে মা বাবার অনুমতি নিতে বলেন। কিন্তু প্রথম থেকেই এই বিয়েতে বেঁকে বসেন দিব্যা ভারতীর বাবা।

১৯৯২ সালে বাড়ির অমতে সাজিদকে বিবাহ করেন অষ্টাদশী দিব্যা। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর মা জানান বিয়ে হওয়ার কিছুক্ষণ আগে এই খবরটি তাকে জানানো হয়। বিয়েতে থাকতেও বলা হয় কিন্তু এতে মা রাজি হননি। বিবাহিত অবস্থাতেই দিব্যা বহুদিন পর্যন্ত থেকেছেন নিজের বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে। এক দীপাবলির দিন স্বয়ং সাজিদ তাঁদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে সত্যিটা জানান। তখনই বাবা জানতে পারেন তাঁর কন্যা বিবাহিত !

বছর ঘুরতেই মারা গেলেন দিব্যা। মুম্বইয়ের অভিজাত আবাসনের দশ তলা ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে পড়ে যান তিনি। কিন্তু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আজও থেকে গেছে রহস্যের অন্তরালে।