ভূতের রাজার বর পেতে ঘুরে আসুন বনগাঁর মঙ্গলগঞ্জ ও কাটা সাহেবের কুঠি

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় দেখেছি ভূতেররাজাকে বর দিতে। যদি সে ভূতের রাজার একবার খোঁজ পেতে ইচ্ছা করে তাহলে অবশ্যই একদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন কলকাতার খুব কাছে বনগাঁর ইছামতি নদীর ধারে মঙ্গলগঞ্জ এবং কাটা সাহেবের কুঠি। নামটা শুনলেই কেমন গা ছমছম করে ওঠে। নাম শুনেই যখন এত শিহরণ জেগে উঠছে অবশ্যই এখানে গেলে আপনি রহস্যের গন্ধ পাবেন এ কথা হলফ করে বলা যায়।

যারা রহস্য ভালবাসেন তারা আর দেরি না করে চটপট চলে যান কাটা সাহেবের কুঠি দেখতে। কিন্তু সাহেবের কুঠি নাম হঠাৎ কাটা সাহেব হলো কেন তবে কি তার মাথা কাটা গেছিল তার পুরোটাই কাটা ছিল! সব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে আপনাকে সেখানে যেতে হবে। বন্য পরিবেশের মধ্যে ঘেরা মঙ্গলগঞ্জ এবং কাটা সাহেবের কুঠির রহস্য উদঘাটন করতে হবে। শিয়ালদা থেকে ট্রেন ধরে চলে যেতে হবে সোজা বনগাঁ স্টেশন। বনগাঁ রেল স্টেশনে নেবে বনগাঁ টাউন হল অটো স্ট্যান্ড এ পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে নাটাবেড়িয়া চলে যেতে হবে। নাটাবেড়িয়া থেকে সোজা চলে যেতে হবে মঙ্গলগঞ্জ। মোটামুটি জনপ্রতি ১০০ টাকা করে খরচ হবে।

যদি পূর্ণিমার রাতে এই জায়গায় যেতে চান তাহলে মন্দ হয় না। আকাশে চাঁদের আলো, মাটিতে বন জঙ্গলের মধ্যে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, মাঝেমধ্যে এক একটা পেঁচা উড়ে যাচ্ছে এদিক থেকে ওদিক, বনে জঙ্গলে পাতার মৃদু আওয়াজ, বাঁশের বন, বাদুড় চারিদিকে সব মিলিয়ে বেশ একটা ভুতুড়ে ভুতুড়ে অনুভূতি আপনি উপলব্ধি করতে পারবে। যদি সাহস করে কাটা সাহেবের কুঠিতে যেতে পারেন তাহলে সেই কুঠির গায়ে হাত বোলালে সেখান থেকেই বেরিয়ে আসবে চাষীদের উপর অকথ্য অত্যাচার এর কান্না। মঙ্গল রাজা বানিয়ে ছিলেন এই কুঠি। ব্রিটিশ আমলে এক উঠেছিল নীলকর সাহেবদের কুঠি। নীলকর সাহেবরা চাষীদের উপর অকথ্য অত্যাচার করতেন। তাদের অত্যাচারের কথা ছাড়াও এরপরে স্বদেশীদের মুক্তিযুদ্ধের কথাও লেখা আছে এই কুঠির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাই সাতপাঁচ না ভেবে রহস্যেঘেরা মঙ্গলগঞ্জ এবং কাটা সাহেবের কুঠি ঘুরে দেখে আসুন।