করোনা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি, আবারো ফিরতে চলেছে লকডাউন!

মার্চ মাস থেকে টানা তিনমাস ভারত জুড়ে ছিল লকডাউন। এই লকডাউনের পিছনে মূল কারণ ছিল করোনা। করোনার চিকিৎসায় মানুষ সাড়া দিতে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছিল জনজীন। শুরু হয়েছিল আনলক পর্ব। ট্রেন,মেট্রো,শপিং মল,রেস্টুরেন্টে, সিনেমা হল সবই খোলা হচ্ছিল। স্বাভাবিক হচ্ছিল পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষ মুখে মাস্ক আর স্যানিটাইজার নিয়ে নিউ নর্মাল জীবন অতিবাহিত করছিল। রোজগারের জন্য মানুষকে ফের রাস্তায় বেরোতে হচ্ছিলো।

করোনা পরিস্থিতি এখন আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দেশে প্রতিদিব লক্ষ লক্ষ মানুষ করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছে। এখনো ভ্যাকসিনের দেখা মেলেনি। সামনে ছিল একের পর এক উৎসবের মরশুম আর তাতেই বেড়ে গিয়েছে রোগীর সংখ্যা। আর এই অবস্থায় ফের লকডাউন জারি হচ্ছে। অবশ্য এবার সারা দেশ জুড়ে নয়, দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউনের পথে হাঁটতে চলেছে। যে সব রাজ্যের কিছু শহরে দিনের পর দিন করোনা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লকডাউনের নিয়ম জারি করার পাশাপাশি আরো কিছু নিয়ম জারি করা হবে যেমন থাকবে নাইট কার্ফু, বিয়ে-শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে মাত্র ১০০ জন নিমন্ত্রিত থাকতে পারবে, পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকলেও প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা জারি ইত্যাদি নিয়মও জারি হবে। ভারতের রাজস্থান, মধ্য প্রদেশের মতো বেশ কয়েকটি রাজ্য এই লকডাউন করা হবে। নিম্মলিখিত এই রাজ্যে জারি হবে লকডাউন। যথাক্রমে-»

আহমেদাবাদ: আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকে কড়া লকডাউন নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। এই শহরে জারি করা হয়েছে নাইট কার্ফু। রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ধরণের যাতায়াত বন্ধ থাকবে।

মধ্যপ্রদেশ: মধ্যপ্রদেশের অবস্থা খুবই খারাপ। তাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে,রাজ্যের ইন্দোর, ভোপাল, রতলাম, গোয়ালিয়র ও বিদিশা এই পাঁচটি শহরে জারি করা হবে নাইট কার্ফু।

নয়ডা: এখানকার পরিস্থিতি বেশ খারাপ তাই বিয়ের অনুষ্ঠানে ডাকা যাবে মাত্র ১০০ জনকে। এমনই নয়ডায় এমন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর নাইট কার্ফু নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

রাজস্থান: পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজস্থানের ৮ জেলায় নাইট কার্ফু জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজস্থানের এই আটটি শহর জয়পুর, যোধপুর, কোটা, বিকানির, উদয়পুর, আজমেড়, আলওয়ার, ভিলওয়ারাতে নাইট কার্ফু জারি করেছে। এই জেলাগুলিতে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নাইট কার্ফু জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর রায়ে কোনো দোকানপাট বন্ধ থাকবে আর যানবাহন বন্ধ থাকবে। এছাড়া রাজধানী জয়পুর, যোধপুর, কোটা, বিকানির, উদয়পুর, আজমেড়-সহ ৮টি জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তাই এখানেও রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ওই ৮টি জেলায় নাইট কার্ফু জারি থাকার একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।