BollywoodHoop Plus

Manju Singh: চলে গেলেন জনপ্রিয় মঞ্জুদিদি, শোকস্তব্ধ ভারতীয় টেলিভিশন জগৎ

সময়টা ছিল আশির দশক। ভারতীয় টেলিভিশন গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে শিখেছে। সেই সময় শিশুদের হাতে স্মার্টফোন ছিল না। তাদের ছুটি কাটানোর উপায় ছিল দিনের একটি বিশেষ সময়ে সম্প্রচারিত ছোটদের জন্য তৈরি বাংলা ও হিন্দি অনুষ্ঠান। তবে একটি কথা অবশ্যই বলে রাখা ভালো, অনুষ্ঠানগুলি এমন সময় সম্প্রচারিত হত, যখন শিশুদের খেলার সময় অথবা বিশ্রামের সময়। ফলে পড়াশোনার সময়ের উপর পড়ত না প্রভাব। ছিল না ‘স্টারকিড’-দের নিয়ে মাতামাতি কারণ বর্তমানে ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা তথাকথিত স্টারকিডরা সেই সময় সকলেই ছিলেন আর পাঁচটা বাচ্চার মতো। আশির দশকে দূরদর্শনে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘খেল খিলোনে’-র মঞ্জুদিদি তখন বাচ্চাদের কাছে সুপারস্টার। কিন্তু হঠাৎই চলে গেলেন তিনি। সঙ্গে চলে গেল একমুঠো শৈশব।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Richa R Jhanji (@hindi.newzcities)

দূরদর্শনে একসময় সম্প্রচারিত ছোটদের অনুষ্ঠানগুলির সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন মঞ্জু সিং (Manju Singh)। প্রযোজনা, উদ্ভাবনা, অভিনয় সব মিলিয়ে মঞ্জু ছিলেন অলরাউন্ডার। পরবর্তী টেলিভিশন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মঞ্জু। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে প্রয়াত হন মঞ্জু।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Paromita Vohra (@bombay.rosie)

হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় (Hrishikesh Mukherjee) -এর মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল মঞ্জুর। আমোল পালেকর (Amol Palekar) অভিনীত ফিল্ম ‘গোলমাল’-এ তাঁর বোনের ভূমিকায় মঞ্জুর অসামান্য অভিনয় সকলের নজর কেড়েছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি 1984 সালে দূরদর্শনে প্রথম প্রযোজিত অনুষ্ঠান ‘শো থিম’-এর মাধ্যমে প্রযোজক হিসাবে আত্মপ্রকাশ মঞ্জুর। আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যমূলক ছোট গল্পের উপর ভিত্তি করে একাধিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেন তিনি। এছাড়াও মানবাধিকার ও নারীর আইনি অধিকারের উপর ভিত্তি করে তৈরি একাধিক তথ্যচিত্র ও ধারাবাহিকের মাধ্যমে সমাজ সচেতনতামূলক বার্তা দিতে চেয়েছিলেন মঞ্জু।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Rashee Johri (@rasheejohri)

ভারতীয় স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে ভারতবর্ষ নিয়ে তাঁর ঐতিহাসিক গবেষণামূলক ধারাবাহিক ‘স্বরাজ’ মুগ্ধ করেছিল সকলকে। মঞ্জু বরাবর তাঁর সমস্ত কাজে বৈদগ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন। জীবন সায়াহ্নে পৌঁছেও মঞ্জু ছোটদের অনুষ্ঠান নিয়ে তাঁর মৌলিক চিন্তাধারা তৈরি করেছেন। আদর্শ নিয়ে বলেছেন শিক্ষামূলক গল্প। একসময়ের মঞ্জুদিদি থেকে হয়ে উঠেছেন মঞ্জুনানি। কিন্তু স্মার্টফোনের যুগে যখন সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল মঞ্জুকে, সেই সময় প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম কেড়ে নিল তাঁকে। বর্তমানের গীতিকার ও সুরকার স্বানন্দ কিরকিরে (Swanand Kirkire) ছিলেন মঞ্জুর প্রথম দিকের সহকর্মী। তিনি এখনও ভাবতে পারছেন না, মঞ্জু নেই। স্বানন্দ মঞ্জুর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।