Bengali SerialHoop Plus

Abhishek-Trina: কেঁদে ফুলে গিয়েছে চোখ, ড্যাডিকে হারিয়ে আনন্দের অনুষ্ঠানেও মুখভার তৃণার

গত বুধবার ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে গেলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শুধুমাত্র রাজনীতির শিকার হয়ে ইন্ডাস্ট্রি তাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছিল। যদি তাঁকে সুযোগ দেওয়া হতো অনেক মহারথীদের অনায়াসে পিছনে ফেলে দিতেন তিনি। তার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন হাতেগোনা তার সমসাময়িক সতীর্থ এবং ছোটপর্দার তারকারা।

তবুও তার শেষকৃত্যের দিন তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির বহু তারকা। শেষবারের মতো অভিনেতাকে চোখের দেখা দেখতে এসেছিলেন অনেকে। কেউ বা তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ এবং বন্ধু, কেউ বা অভিনয় করতে করতে তার ছেলে বা মেয়ের মতোই হয়ে গেছে। ঐদিন অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানাতে বাড়ির পাশাপাশি টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে দেখা যায় তৃণা সাহাকে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে তৃণা সাহা কে হাউ হাউ করে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে। তাঁকে ভরসা যোগাচ্ছেন পাশে থাকা ঐন্দ্রিলা।

মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত খড়কুটোর সেটে এসে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। চূড়ান্ত শরীর খারাপ নিয়েও দিয়েছিলেন শট। সেটের সকলে তাকে বাড়ি চলে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করার পরামর্শ দিলে তিনি মানেননি। মানলে হয়তো তাকে বৃহস্পতিবার টেকনিক্যাল স্টুডিওতে নিথর দেহে আসতে হতো না। অভিনেতার এই আকস্মিক প্রয়াণে বিধ্বস্ত হয়ে গেছেন তৃণা সাহা। তিনি কেন মানতে পারছেন না তার ড্যাডি আর নেই। বৃহস্পতিবার দিন সকাল থেকেই হাপুস নয়নে অভিনেতাকে বিদায় জানাতে দেখা গিয়েছিল তৃণাকে।

তৃণা সাহা জানান যে বেশ কিছুদিন ধরেই পেটের জন্য নানা শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছিলেন তিনি। অসহ্য পেটে যন্ত্রণা নিয়েও শুটিংয়ে আসেন তিনি। পরশুদিন সেটে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুটিং করতে গিয়ে দুলাল লাহিড়ীর গায়ে বমিও করে ফেলেন তিনি। তার পরেও উনি টানা শুটিং করে গেছিলেন। এতটাই ছিল তার কাজের প্রতি ডেডিকেশন।

একটি জনৈক সংবাদমাধ্যমকে তৃণা সাহা প্রতিক্রিয়ায় জানান,‘‘পর্দায় অভিষেকদা যেমন আমার ড্যাডি ছিল, পর্দার বাইরেও ড্যাডির মতোই ছিল। পরশু দিনও শ্যুটে আমি খুব বকাবকি করেছি। শরীরের একদম যত্ন নিচ্ছিল না।’’

কিন্তু কথায় আছে দ্য শো মাস্ট গো অন। তাই কাছের মানুষকে হারিয়েও তাঁকে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল একটি অনুষ্ঠানে। কলকাতা পুলিশ আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন তৃণা সাহা। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং জুন মালিয়া। কানে বড় অক্সিডাইজ দুল, সাদা কুর্তি গোলাপি অন্যায় অনন্য সাজে সেজে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু এত সাজের মাঝখানে তার মুখ ছিল বিবর্ণ। কান্নাকাটি করা তার পাংশু মুখ নেটিজেনরা তাঁকে সমবেদনা জানান। কান্নাকাটিতে তাঁর চোখ ফুলে গিয়েছে তা তার মুখ দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। যদিও এই অনুষ্ঠানে কিছুক্ষণ সময়ের জন্য উপস্থিত থেকে আবার টেকনিশিয়ান স্টুডিও তে অভিনেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে যান তৃণা।